ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ধারাভাষ্যের জগতে পথচলা। টেলিভিশনের পর্দায় পাকিস্তানের রমিজ রাজা, ভারতের রবি শাস্ত্রী কিংবা বাংলাদেশের জাফর উল্লাহ শারাফতের কণ্ঠে ক্রিকেটের বর্ণনা শুনে মুগ্ধ হতেন তিনি।
স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তাঁদের মতো করেই মাঠে বসে মাইক্রোফোন হাতে খেলার ধারাবর্ণনা দেবেন। সেই স্বপ্ন থেকেই একসময় হাতে তুলে নেন মাইক্রোফোন। বলছি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পরিচিত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার সাইদুল ইসলামের কথা।
শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি টেলিভিশনে খেলা দেখতেন এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতেন খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠ। তাঁদের শব্দচয়ন, উপস্থাপনা ও বর্ণনার কৌশল তাঁকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করত।
সেই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেন ধারাভাষ্যের জন্য। একসময় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্য দেওয়ার আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন তিনি।
সাইদুল ইসলামের ধারাভাষ্য জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ২০১২ সাল। সে বছর জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত ধারাভাষ্যকার অন্বেষণ বা ‘কমেন্ট্রি হান্ট’ প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হন তিনি।
এরপর ঢাকায় দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকারদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান। তাঁর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকেই পরবর্তী সময়ে বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে প্রতিভা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং যথাযথ সহযোগিতার অভাবে জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সহজ হয়নি তাঁর জন্য। বড় পরিসরে কাজের সুযোগ সীমিত থাকলেও থেমে থাকেনি তাঁর কণ্ঠের চর্চা।
মিরসরাইয়ের ক্রীড়াঙ্গনে ধারাভাষ্যের প্রসঙ্গ উঠলে এনাম বাঙ্গালীর পর সাইদুল ইসলামের নামও বেশ পরিচিত। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি আবারও নিজের কণ্ঠের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন নুরুল আমিন এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় তাঁর সাবলীল, প্রাণবন্ত ও চমৎকার ধারাবর্ণনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। খেলার প্রতিটি মুহূর্তকে শব্দের বুননে জীবন্ত করে তোলেন তিনি। তাঁর ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হন মাঠে উপস্থিত প্রায় হাজারখানেক দর্শক ও অতিথিরা।
মাইক্রোফোন হাতে ক্রীড়াঙ্গন মাতানো সাইদুল ইসলামের আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। তিনি মূলত একজন ইংরেজি শিক্ষক। ফেনীর স্বনামধন্য মৌলভী সামসুল করিম কলেজে খণ্ডকালীন ইংরেজি প্রভাষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
একদিকে শ্রেণিকক্ষে ইংরেজি ভাষার পাঠদান, অন্যদিকে মাঠে ক্রিকেট-ফুটবলের উত্তেজনা শব্দের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে তুলে ধরা। দুটি ভিন্ন জগতেই নিজের দক্ষতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন সাইদুল ইসলাম।
জাতীয় পর্যায়ে ধারাভাষ্যকার হওয়ার স্বপ্ন এখনো তাঁর হৃদয়ে লালিত। প্রয়োজনীয় সুযোগ, সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁর কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে পড়তে পারে জাতীয় অঙ্গনেও। মিরসরাইয়ের ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের এই প্রতিভাবান ধারাভাষ্যকারের যথাযথ মূল্যায়ন হোক এবং তাঁর সামনে খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।