‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ—ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামীকাল সোমবার (২ নভেম্বর) উদ্যাপিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দিবস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপাচার্য বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের প্রাণের উৎসব। এই উৎসবকে সফল ও সার্থক করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবার সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোকে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতায় দিবসটি সফলভাবে উদ্যাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানসূচি বাস্তবায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চসজ্জা, দোয়া মাহফিল, প্রচার ও মিডিয়া ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে গঠিত সাতটি উপকমিটির আহ্বায়কেরা নিজ নিজ কমিটির প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তাঁদের প্রতিবেদন ও উপস্থিত সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে অনুষ্ঠানগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিশেষ অতিথির মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাজিদের মাকেও বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জকসু ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন উপকমিটির আহ্বায়ক, কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও সভায় অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।