সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা প্ল্যাটফর্মস’ তাদের বহুল ব্যবহৃত তিনটি প্ল্যাটফর্ম— ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড বা প্রিমিয়াম সংস্করণ চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এত দিন ধরে বিশ্বজুড়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা এই অ্যাপগুলোর ফ্রি ভার্সনের পাশাপাশি এখন থেকে ‘প্লাস’ সেবাও উপভোগ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতকাল মূলত বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল মেটা এবার রাজস্ব আয়ের খাত বাড়াতে এই নতুন পন্থা নিয়ে মাঠে নামছে।
মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ সেবা চালু করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং এআই (AI) সেবার জন্য আরও ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে মেটার।
যে কারণে ‘প্লাস’ সেবা নিয়ে এলো মেটা:
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেটার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে তাদের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা। মেটা চলতি বছরেই এআই ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার খরচ বাবদ প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ খরচের বিষয়টি মেটার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
বিনিয়োগকারীদের সেই উদ্বেগ দূর করতে এবং বিকল্প আয়ের সুনির্দিষ্ট উৎস তৈরি করতেই এই ‘প্লাস’ সেবা বাজারে আনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পেইড ভার্সন চালুর এই খবরটি প্রকাশের পরপরই পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।
খরচ ও আকর্ষণীয় ফিচারসমূহ:
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোন অ্যাপের জন্য প্রতি মাসে কত টাকা খরচ করতে হবে এবং কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে তা নিচে দেওয়া হলো:
ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস: এই দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা) খরচ করতে হবে। এই সংস্করণে ব্যবহারকারীরা পাবেন উন্নত ‘অ্যানালিটিকস’, নিজের স্টোরি কে কতবার দেখল তার বিস্তারিত তথ্য, সাধারণের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে পোস্ট পৌঁছে দেওয়ার (রিচ বাড়ানোর) সুযোগ এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজ করার বিশেষ সুবিধা।
হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস: এই সেবার জন্য প্রতি মাসে গুনতে হবে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬৮ টাকা)। এই পেইড সংস্করণে মূলত পার্সোনালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীরা পাবেন এক্সক্লুসিভ প্রিমিয়াম স্টিকার, নিজের পছন্দসই রিংটোন সেট করার সুবিধা এবং আকর্ষণীয় অ্যাপ থিম।
তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতেও একই মূল্য নির্ধারণ করা হবে নাকি স্থানীয় বাজার অনুযায়ী দাম কিছুটা কমানো হবে, তা মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ‘মেটা ওয়ান’:
নাওমি গ্লেইট আরও জানান, মেটার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতে তাদের সবকটি পেইড সেবাকে একক ছাতার নিচে এনে ‘মেটা ওয়ান’ নামের একটি সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ চালু করা। এর আগে ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা প্রাইভেসি আইন মেনে চলার স্বার্থে ইউরোপের দেশগুলোতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড ভার্সন চালু করেছিল মেটা, যা ছিল সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনমুক্ত। তবে এবারের ‘প্লাস’ সংস্করণগুলো সাধারণ ফ্রি ভার্সনের চেয়ে ফিচার ও কার্যকারিতার দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত ও আলাদা হবে।