শোকের গভীরতা আর শ্রদ্ধার অশ্রুতে ভাসল খুলনার কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসা। দেশজুড়ে ঘোষিত ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদ্রাসা মিলনায়তনে এক আবেগঘন স্মরণসভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বীর আবু সাঈদসহ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত দিবসের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে সকাল থেকেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
স্মরণসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মাদ্রাসার সুপার (প্রতিষ্ঠান প্রধান) এ,কে,এম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক মাস্টার আব্দুর রউফের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন— সহকারী মৌলভি মাওলানা এম এ সালাম, মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, মাস্টার আব্দুস ছালাম, সাবিনা ইয়াসমিন, মাস্টার আবু রায়হান, বাবু কুমারেশ মন্ডল, মাওলানা রফিকুল ইসলাম ও ক্বারী এফ এম নুরুল হক। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে এ,কে,এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “জুলাই আমাদের শিখিয়েছে ত্যাগের মর্ম। শহীদরা রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না। বেজপাড়া হায়াতুননেছা মাদ্রাসা শুধু পাঠদান করে না, চরিত্র গড়ে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব তোমাদের।”
মাওলানা এম এ সালাম কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোকপাত করে বলেন, “শহীদরা আল্লাহর কাছে জীবিত। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের সত্যের পথে অবিচল থাকতে হবে। আজ আমরা কাঁদতে আসিনি, শপথ নিতে এসেছি—শহীদদের রেখে যাওয়া লাল-সবুজ পতাকা সমুন্নত রাখব।”
সহকারী মৌলভি মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আবু সাঈদের বুক পেতে দাঁড়ানো শুধু একটি ছবি নয়, এটি জাতির বিবেক জাগানোর মন্ত্র।” তিনি শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান প্রার্থনা করেন।
সঞ্চালক আব্দুর রউফ অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরেন এবং অত্যন্ত সুচারুভাবে অনুষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আলোচনা পর্বের শেষে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় মোনাজাতে অংশ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অশ্রুসজল চোখে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।