বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। বরং এটি গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন, দমন-পীড়ান ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ক্ষোভ ও প্রতিরোধের একটি যৌক্তিক পরিণতি।
এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনগণের বঞ্চনা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছিল। চূড়ান্ত এই গণআন্দোলনে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে থেকে এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
বিএনপির প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে তাদের ৪২২ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং লক্ষাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এছাড়া দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার রাজনৈতিক মামলায় আসামি করা হয়, ১,২০৪ জনকে গুম করা হয় এবং ৪,৭৭১ জন নেতাকর্মী থানা হেফাজতসহ নানা ঘটনায় নিহত বা মারা যান।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগ, রক্তক্ষয় ও অবিরাম প্রতিরোধের চূড়ান্ত অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্দোলনের তীব্র উত্তাপের মুখে দমন-পীড়ন সত্ত্বে আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েনি।
চূড়ান্ত পর্যায়ে এই গণআন্দোলন, তীব্র জনঅসন্তোষ এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপের মুখেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।