রবিউল ইসলাম, দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

৩০ টাকার ব্রেক বনাম ৮০ লাখ মানুষের রুটি-রুজি: ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ নয়, চাই ১০ দফার আধুনিক ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের রুটি-রুজি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের যাতায়াত এই খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত নকশা এবং সড়ক নিরাপত্তার অভাবে দিন দিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাহনটি একেবারে বন্ধ না করে আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের জোর দাবি উঠেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অটোরিকশা ও অটোভ্যান দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৬০৩ জন নিহত হয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশায় উচ্চক্ষমতার মোটর ও ভারী ব্যাটারি ব্যবহার করে গতি ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছালেও, ব্রেকিং ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয় সাধারণ প্যাডেল রিকশার উপযোগী সস্তা প্রযুক্তি। ৩০০ কেজির দ্রুতগতির এই যানকে ৩০ টাকার প্রযুক্তির ব্রেকের ওপর ছেড়ে দেওয়াই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমাধান কেবল উচ্ছেদ বা রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে না। বাস, ট্রাক বা প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার শিকার হলে যেমন সেগুলো বন্ধ করা হয় না, তেমনি লাখো শ্রমজীবী পরিবারের জীবিকা ও কোটি কোটি টাকার অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ধ্বংস না করে সমন্বিত সংস্কার প্রয়োজন।

এই খাতকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে ১০ দফা আধুনিক সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে:

১. ইউনিক নম্বর ও ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন।

২. চালকের জন্য ন্যূনতম প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক জ্ঞান ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা।

৩. হাইড্রোলিক বা গতি-ওজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত ব্রেক বাধ্যতামূলক করা।

৪. কারখানাভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড ও মানসম্মত বডি ডিজাইন অনুমোদন।

৫. স্পিড গভর্নরের মাধ্যমে এলাকাভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ।

৬. জাতীয় মহাসড়ক এড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানীয় ও শহুরে রুট নির্ধারণ।

৭. ব্রেক, ব্যাটারি ও স্টিয়ারিংয়ের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা।

৮. অবৈধ চার্জিং বন্ধ করে নিরাপদ ও সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তিভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো গঠন।

৯. পুরোনো প্রযুক্তিকে ডাম্পিং না করে ধাপে ধাপে রেট্রোফিটিং ও আপগ্রেডিং করা।

১০. রাজস্ব ও সরকারি নীতিমালার আওতায় এনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান।

শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজি রক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল দমনমূলক পথ না হেঁটে বিজ্ঞানভিত্তিক, নীতিভিত্তিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাগেরহাটে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন অর্ধেকে

নওগাঁর পত্নী তলায় নেশাকারী কারবারি আটক

ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে ৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬

চাঁদা দাবির অভিযোগ, সাংবাদিকের প্রশ্নে অভিযোগকারীকে ‘মেরে লাশ বানানোর’ হুমকি

পদ্মায় দুই দিন পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁয় রামদাসহ আন্তঃজেলা দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী আটক

নবীনগরের ইব্রাহিমপুরে ভাঙা বাঁশের সাঁকোই ভরসা, স্থায়ী ব্রিজের আকুতি

২০০ টাকার ন্যানো ইউরিয়ায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা, নজর কাড়ল প্রধানমন্ত্রীর

১০

মঘাদিয়ার শরিয়তপাড়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

১১

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে

১২

খুলনায় বিদেশে লোক পাঠানোর নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

১৩

মঘাদিয়া ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আলোচনায় নাসরিন আক্তার

১৪

বেলকুচিতে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

১৫

মিরসরাইয়ে আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসায় তামাদ্দুনিক প্রতিযোগিতা

১৬

মিরসরাইয়ে এসএসসি-দাখিল উত্তীর্ণ ৩৫ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

১৭

শ্যামনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

১৮

দিঘলিয়ায় মাদরাসায় চুরি করতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা

১৯

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

২০