সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৪ নম্বর বাংলা বাজার থেকে আলু বাগান পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই শতাধিক পাথর ভাঙার কল (ক্রাশিং মেশিন) পরিবেশ আইন ও সরকারি শর্ত তোয়াক্কা না করে অবাধে পরিচালিত হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী পাথর ক্রাশিংকালে ধুলোবালি ও বায়ুদূষণ রোধে পর্যাপ্ত পানি স্প্রে করার বাধ্যতামূলক শর্ত থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ মিল মালিক।
সম্প্রতি অঞ্চলটিতে নিয়মিত বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও মিল মালিকরা পানি ব্যবহারের শর্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছেন। ফলে অনবরত নিঃসরিত সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বালু বাতাসে মিশে পুরো এলাকার বায়ুমণ্ডল মারাত্মকভাবে দূষিত করে তুলছে।
সরেজমিনে ৫ জুলাই ও ২২ জুলাই এলাকা দুটি ঘুরে দেখা যায়, বাংলা বাজার থেকে আলু বাগান পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশের বড় বড় একাধিক ক্রাশার মিল থেকে কোনো প্রকার পানি ছাড়াই পাথর ক্রাশ করা হচ্ছে। সিলেট-তামাবিল জাতীয় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব মিলের ঠিক পাশেই রয়েছে জনবসতি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মসজিদ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়।
অব্যাহত এই ধূলিদূষণের ফলে প্রতিদিন সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক, স্কুলগামী কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুকনো মৌসুমে নানাবিধ অজুহাত দেখালেও ভরা বর্ষাতেও পানি না দিয়ে এই কর্মকাণ্ড চালানো স্পষ্ট আইন অমান্য করার নামান্তর। পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিমুক্ত এলাকা নিশ্চিত করতে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের যৌথ অভিযানে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।