নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার জেরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কৈফিয়ত তলব করায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলার পাল্টা অভিঘাত তৈরি হয়েছে। সৈয়দপুরের কামারপুকুর ক্লাস্টারের এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের ভুয়া অভিযোগ দায়ের করার ঘটনা চাউর হলে সাধারণ শিক্ষকমহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
জানা গেছে, শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ আক্তারের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ক্লাস্টারের ১৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত প্রতিবাদ লিপি দাখিল করেছেন।
এদিকে, গত ৮ আগস্ট একই বিদ্যালয়ের সহকর্মী সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ জাহানাহ বেগম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ আক্তারের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, গোপন ছবি তুলে অপপ্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সৈয়দপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ঐ বিদ্যালয়ে কর্মরত জাহানাহ বেগমের আনা এ অভিযোগের সত্যতা সমর্থন করেছেন অন্য দুই সহকর্মী শিক্ষিকা বেবি খাতুন ও সাবরিনা আক্তার। এছাড়া, বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য, ইউপি সদস্য ও সচেতন মহল ওই শিক্ষিকার নানা দুর্নীতি, অপশাসন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার চেয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে এটিইও মরিয়ম নেছা জানান, গত ৩০ জুলাই ভূয়া অভিভাবক মনোনয়ন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন সামগ্রী ক্রয়ে বিধিমালা ভঙ্গ, বিদ্যালয় চলাকালে অফিস কক্ষে তালা ঝুলানো ও অভিভাবকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে শাহানাজ আক্তারকে লিখিত কৈফিয়ত তলব করা হয়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এই মিথ্যা ঘুষের নাটক সাজিয়েছেন। অপরদিকে, এটিইও মরিয়ম নেছাকে সৎ, আন্তরিক ও শিক্ষাবান্ধব কর্মকর্তা উল্লেখ করে তাঁর পক্ষে যৌথ লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন ক্লাস্টারের ২১ জন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহানাজ আক্তার দাবি করেন, ওয়াশ ব্লক বরাদ্দের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে এবং স্লিপের চেক স্বাক্ষরে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ আক্তারের বিরুদ্ধে সহকর্মীর দাখিল করা লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।