শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতন, বাধ্যতামূলক প্রাইভেট বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ক্লাসে অনিয়ম এবং পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠছে এক শ্রেণির শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা ও মেধা বিকাশে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
সরেজমিনে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাছে প্রাইভেটে পড়তে বাধ্য করছেন। প্রাইভেটে না গেলে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া বা ফেল করানোর মতো মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কেবল তা-ই নয়, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র “কমন” দেওয়ার প্রলোভনে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রশ্নফাঁসের অশুভ চক্রকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল ও শ্লীলতাহানির মারাত্মক অভিযোগও উঠে এসেছে। সম্প্রতি পাবনার আটঘরিয়ায় শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা গোটা শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা জানান, কৃত্রিমভাবে শর্টকাট উপায়ে পাস করানোর ফলে পরবর্তীতে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় আসল দুর্বলতা ধরা পড়ছে। ফলস্বরূপ মূল ভিত্তি দুর্বল থাকায় শিক্ষার্থীরা সাধারণ যোগ-বিয়োগ, ইংরেজিতে রিডিং পড়া কিংবা কঠিন বাংলা বানানে চরম সমস্যায় ভুগছে।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) খুলনা মহানগরের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মল্লিক বলেন, “মেধার বদলে যদি টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়, তবে শিক্ষার মান কীভাবে ভালো হবে? যে শিক্ষক ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবেন, তিনি শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর চেয়ে নিজের বিনিয়োগকৃত অর্থ তোলতেই বেশি ব্যস্ত থাকবেন। শিক্ষকতা কোনো ব্যবসা নয়। সরকার যদি ভালো ফলাফল চায়, তবে নিয়োগব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক করতে হবে।”
শিক্ষাব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয় রোধে শিক্ষাবিদরা বোর্ডের কেন্দ্রীয় প্রশ্নব্যাংক থেকে অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন সরবরাহ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করাসহ ৪ দফা সুপারিশ জানিয়েছেন।