চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা দমনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন কয়েকজন তরুণ। নগরীর জামাল খান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে মশারি টানিয়ে অবস্থান নেন তাঁরা।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মশকনিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রতিবাদস্থলের পাশে বিতরণ করা হয় প্রচারপত্র। এ সময় একটি বোর্ডে লেখা ছিল, ‘মেয়র বড় নাকি মশা বড়?’
হাশমিরা হায়দার চৌধুরীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাদিয়া আফরিন, নুসরাত জাহান, তানিয়া আমিন, আয়শা চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল মামুন অংশ নেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথচারীদের নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, মশকনিধন কার্যক্রম এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন সাধারণ মানুষ। এ সময় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ পায়।
আয়োজকদের অভিযোগ, মশকনিধনে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ওষুধের মেয়াদ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তাঁদের এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হাশমিরা হায়দার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়রের কাছে কী মনে হয়—তার, নাকি মশার ক্ষমতা বেশি। বর্তমানে আমাদের মনে হচ্ছে মশার ক্ষমতা বেশি। এ জন্য আমরা মশারির ভেতর থেকে কথা বলছি, বের হতে পারছি না।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে।
এদিকে চট্টগ্রামে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের মূল তথ্যসূত্র থেকে জেলা ও বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম। সংগঠনটির অভিযোগ, নগরীর ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ স্লোগানের বাস্তব প্রতিফলন পর্যাপ্ত নয়।
প্রতিবেদনে আইইডিসিআরের বরাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ২০২৪ সালের ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৭৫ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের ভিত্তি, জরিপের সময়কাল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উল্লেখিত ২০ শতাংশ সীমার সঙ্গে তুলনার যথার্থতা প্রকাশের আগে যাচাই করা জরুরি।
মশকনিধন কার্যক্রমে ব্যয়, কীটনাশকের কার্যকারিতা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার প্রজাতি ও কীটনাশক প্রতিরোধক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত জরিপ, কার্যকর কীটনাশক নির্বাচন এবং সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
মশকনিধন কার্যক্রমের ব্যর্থতা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।