জনগণের করের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তাই দলীয়করণ ও অনিয়মের মাধ্যমে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশের জন্য পাঠানো এ প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুরের গংগাছড়া উপজেলার ৩ নম্বর বড়বিল ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বড়বিল দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বড়বিল ইউনিয়ন শাখার আমির ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সোহাগ রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মো. মোরছালুন হক।
সভায় স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় এক কৃষক সার না পাওয়ার সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
জবাবে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের পরিপত্র জারি করা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। পরিপত্রের বাইরে গিয়ে দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রক্রিয়াকে তিনি ‘বানরের পিঠা ভাগের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট আমলাদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে চাপ এলেও কর্মকর্তাদের মেরুদণ্ড সোজা রেখে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ঘাম ঝরানো করের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তাঁদের দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার মাধ্যমে কেউ পার পাবেন না।
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। তিনি জানান, প্রত্যেক ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দলীয় স্বার্থ দেখতে গিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করলে ভবিষ্যতে এর জবাব দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী গংগাছড়া উপজেলা শাখার সাবেক আমির অধ্যক্ষ শফিকুল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হলেও সরকার পরিচালনায় সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণ এবং বিরোধী দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান বলেন, রায়হান সিরাজী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ছিল, তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তাঁরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান না। তবে জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে তাঁদের ধৈর্যের সীমা থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। গংগাছড়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিরও সমালোচনা করেন এই নেতা।
এ ছাড়া সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী গংগাছড়া উপজেলা শাখার নায়েবে আমির ও কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তাজউদ্দীন, উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম.
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গংগাছড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শোয়াইবুর রহমান এবং উপজেলা জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী পরশুরাম থানা শাখার আমির মো. মাহবুব আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সোহাগ রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজের জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।