রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সব ধরনের আইনি তথ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত থাকায় আগামীকাল রোববার (২৪ মে) বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়ার এই উদ্যোগ বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নেশাক্ত অবস্থায় পৈশাচিকতা:
এর আগে গত ১৯ মে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসায় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গত বুধবার (২০ মে) মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে (৩০) আদালতে হাজির করা হলে সে নিজের পৈশাচিক অপরাধের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা জানায়, এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটানোর আগে সে মারাত্মক মাদক ‘ইয়াবা’ সেবন করেছিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে শিশুটির ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালায়।
ওই দিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে আদালত তাকে ও তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টের ইতিবাচক ফলাফল এবং আসামির নিজস্ব জবানবন্দি আদালতে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।