পাবনা সদর পৌরসভার কুঠিপাড়া জমিদার পরিবারের সন্তান অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করে ধীরে ধীরে ছাত্রদের প্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পরপর তিনবার শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি
১৯৯৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন শিমুল বিশ্বাস। ২০০১ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে, ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের আলোচনায় আসে। সে সময় বাংলাদেশে চলছিল ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি অবস্থা।
শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য। লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস মানবকল্যাণ ট্রাস্টের (এবি ট্রাস্ট) মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গরু-ছাগল বিতরণ, ভ্যান ও রিকশা প্রদান, ঘর নির্মাণে সহযোগিতা, সেলাই মেশিন বিতরণ এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সহায়তার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
শ্রমিকদের অধিকার আদায়েও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন লেখক। শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি শ্রমিকনেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবরণ ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন বলে লেখকের দাবি।
২০২০ সালের করোনাভাইরাস মহামারির সময় পাবনার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও লেখায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ওই সময়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং হাসপাতাল ও মানুষের বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহে তাঁর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন লেখক।
মহামারির কঠিন সময়ে মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এ ধরনের উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সহায়ক হয়েছিল বলে লেখকের মূল্যায়ন।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও শিমুল বিশ্বাসের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন লেখক। তাঁর সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার চার শতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে বলে লেখায় দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া পাবনায় শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান এবং দেশে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাসে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন লেখক।
লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা অর্জন করেন শিমুল বিশ্বাস। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে পাবনা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের পরও জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টিকে তাঁর রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন লেখক।
লেখার বর্ণনা অনুযায়ী, বাড়িতে অবস্থানকালে প্রতিদিন সকালে তাঁর কাছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অভিযোগ, দাবি ও সমস্যার কথা জানাতে আসেন। তিনি তাঁদের কথা শোনেন এবং সাধ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে মানুষের দাবি-দাওয়া নিজেই পৌঁছে দেন বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।
দলমত-নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানোর বিষয়টিও তাঁর জনসম্পৃক্ত রাজনীতির একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে স্থানীয় সমস্যার কথা শোনার বিষয়টিও লেখায় উঠে এসেছে। এসব সভায় উপস্থিত মানুষকে সরাসরি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেছেন লেখক।
এভাবে মানুষের বক্তব্য শোনা, সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।
জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের প্রত্যাশা শুধু নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, বরং নির্বাচনের পরও তাঁদের কথা শোনা, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। সেই বিবেচনায় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও তাঁদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ।
জনগণের আস্থা অর্জন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই আস্থা ধরে রাখাও একজন জনপ্রতিনিধির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এলাকার সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবনের মানবিক দিক, শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের কথা শোনার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন লেখক শেখ মামুন। তাঁর মতে, জনগণের পাশে থাকা এবং তাঁদের দাবি-দাওয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই জনবান্ধব রাজনীতির প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে।
জনগণ এমন জনপ্রতিনিধিই প্রত্যাশা করেন, যিনি তাঁদের কথা শুনবেন, অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিক থাকবেন। সেই প্রত্যাশা পূরণে শিমুল বিশ্বাসের সামনে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে দায়িত্ব ও জবাবদিহির চ্যালেঞ্জ।
জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন, মানুষের আস্থা ধরে রাখা এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত তাঁর জনবান্ধব রাজনীতির সাফল্য নির্ধারণ করবে।