জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের উচ্ছেদ কার্যক্রমে বসতবাড়ি হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে তিন দিনমজুর পরিবার। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার পশ্চিম মাদারটিলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ মামলার কোনো নোটিশ তাঁরা পাননি। এমনকি ডাক বিভাগের রেজিস্ট্রারেও সংশ্লিষ্ট পোস্ট রশিদের কোনো তথ্য মেলেনি। ফলে নোটিশ জালিয়াতি ও একতরফা রায়ের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী মন্টু মিয়া ও মকুল মিয়া জানান, প্রতিপক্ষ আবিয়া ওরফে রাবেয়ার সঙ্গে তাঁদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ প্রায় ৩০ বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন। চলতি মাসের ১৪ তারিখ ওই মামলায় হাজিরার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু গত ২৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ আদালতের লোকজন ও পুলিশ এসে তাঁদের বসতবাড়ি ভেঙে উচ্ছেদ করে। এতে মন্টু মিয়া, মকুল মিয়া এবং তাঁদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছোট ভাই বকুল মিয়ার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “তিন ভাইয়ের বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় এই অসহায় ও দিনমজুর পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।” অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের কেউ আশ্রয় দিলে তাঁদেরও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন বাদীপক্ষের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক।
নোটিশ জারির বিষয়ে রৌমারী সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের তৎকালীন জারিকারক আব্দুস ছালাম জানান, উচ্ছেদ নোটিশে থাকা স্বাক্ষরটি তাঁর নয়। অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. নুরুন্নবী জানান, ৩ মে ২০২৬ তারিখে মন্টু, মুকুল ও বকুল মিয়ার নামে দেখানো ৩৯৩ থেকে ৩৯৫ নম্বরের কোনো পোস্ট রশিদ রেজিস্ট্রারে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আদালতের রায়ে তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, এখানে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই।”