জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ফটক দিয়ে বোরকা পরে নারীর ছদ্মবেশে প্রবেশ করার সময় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ আটকের ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি আবাসিক হোটেলের কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আটকের পর শিক্ষার্থীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজের পরিচয় ও ক্যাম্পাসে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বারবার অসঙ্গতিপূর্ণ ও ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি দাবি করেন, তিনি আনসার সদস্য এবং যাত্রাবাড়ী থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) অধীনে সোর্স হিসেবে কাজ করেন। গেন্ডারিয়া ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার মাদকসেবী ও ইভটিজারদের শনাক্ত করতে ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে বোরকা পরার কারণ সম্পর্কে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা তাকে বিরক্ত করায় তিনি এভাবে এসেছেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে গেলে তিনি যাত্রাবাড়ী থানার ওসিকে ফোন করার অনুরোধ জানান এবং স্থানীয় এক নেতার অনুসারী বলে পরিচয় দেন। তবে তাঁর এসব দাবির সততা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে প্রক্টর অফিসের সহায়তায় তাঁকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ছদ্মবেশে প্রবেশের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি কী উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন এবং তাঁর সাথে থাকা হোটেলের কার্ডের রহস্য কী—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।