২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের জন্য মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবার কমিটিতে কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এবং কো-কনভেনর হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মূল কমিটির পাশাপাশি টেকনিক্যাল, ক্রয়, অর্থসহ একাধিক কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি গঠনের পর ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া, সময়সূচি এবং পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির কনভেনর অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হোস্ট এবং কোনটি কো-হোস্ট হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগগির আরেকটি সভা করে টেকনিক্যাল, ক্রয় ও অর্থ কমিটি গঠন করা হবে। ওই সভাতেই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
কো-কনভেনর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগির আরেকটি সভা করে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর সময়ের সিনিয়রিটির ভিত্তিতে এবার কনভেনর ও কো-কনভেনর নির্বাচন করা হয়েছে। ২০০২ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০০৬ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সিনিয়রিটির ভিত্তিতে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্রমান্বয়ে অপেক্ষাকৃত কম সিনিয়র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা এ দায়িত্ব পালন করবেন।
অধ্যাপক গোলাম রব্বানী আরও জানান, আগেরবারের মতো এবারও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন সাপেক্ষে এর সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে পারে।
বর্তমানে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।
এদিকে জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে নতুন তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে যুক্ত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত ও সহজ পদ্ধতিতে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।