পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—রাষ্ট্রপতি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথচলা কোনো করুণা, অনুগ্রহ কিংবা ভাগ্যের আকস্মিক উপহার নয়। এটি একজন মানুষের অবিচল সততা, রাজনৈতিক আদর্শ, সীমাহীন ত্যাগ, নিষ্ঠা, ধৈর্য এবং বহু বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের এক অনন্য অর্জন।
বছরের পর বছর ধরে চরম প্রতিকূলতা ও ঝড়ঝাপটার মধ্যেও তিনি নিজের বিশ্বাস ও রাজনৈতিক আদর্শকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে গেছেন। ক্ষমতার মোহ বা পদ-পদবির লোভ তাঁকে কখনো আদর্শচ্যুত করতে পারেনি; বরং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও দেশের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতাকেই তিনি সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
একসময় যিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা দিয়েছেন, আজ তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে অসংখ্য ত্যাগের গল্প, কঠিন ও সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রমের ধৈর্য, নিরলস পরিশ্রম এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার গভীর অভিজ্ঞতা।
সম্মান কখনো কাউকে দয়া করে দেওয়া যায় না; যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে অর্জন করে নিতে হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া মূলত সেই অর্জিত সম্মানেরই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। কোনো বিশেষ পদ তাঁকে বড় করেনি; বরং তাঁর সততা, আদর্শ, নিষ্ঠা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামই তাঁকে আজকের এই অনন্য মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে উন্নীত করেছে।
পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার এই পথচলা কেবল কোনো ব্যক্তির অর্জন নয়, এটি রাজনৈতিক সততা, ত্যাগ ও যোগ্যতার এক গৌরবময় অধ্যায়।