ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণিবিভেদ ও মানুষের মধ্যে বিদ্বেষের দেওয়াল ভেঙে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে অনন্য কবিতা রচনা করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের কবি হাবিবুর রহমান মুকুল। তাঁর রচিত বিশেষ কবিতার শিরোনাম ‘মানুষ’।
কবিতাটিতে মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সাম্যের কথা উঠে এসেছে। ধর্মীয় পরিচয় কিংবা কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস দিয়ে মানুষকে মূল্যায়ন না করে মানবিক পরিচয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন কবি।
‘মানুষ’ কবিতায় কবি লিখেছেন, তিনি মানুষের সঙ্গে থাকেন, মানুষের সঙ্গে মেশেন, মানুষের হাসিতে আনন্দ পান এবং মানুষের কষ্টে ব্যথিত হন। একই সঙ্গে কোনো মানুষকে ধর্ম বা শ্রেণি দিয়ে বিচার না করার অঙ্গীকারও ফুটে উঠেছে তাঁর লেখনীতে।
মানুষের শারীরিক ও প্রাকৃতিক অভিন্নতার বিষয়টি তুলে ধরে কবিতায় বলা হয়েছে—সবার শরীরে প্রবাহিত রক্ত একই লাল। প্রকৃতির অপার বৈচিত্র্য যেমন চন্দ্র-সূর্য, সমুদ্র, পাহাড়-জঙ্গল, তারকারাজি, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও দিন-রাতের সৌন্দর্য—সব মানুষই সমানভাবে অনুভব করে।
কবি স্পষ্ট করেছেন, ধর্মীয় বেড়াজাল, ঘৃণা-বিদ্বেষ এবং মানুষে মানুষে যুদ্ধ-বিগ্রহ তাঁর পছন্দ নয়। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সব বিভেদ ও হিসেব-নিকাশ অর্থহীন হয়ে পড়ে; কেবল মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসাই টিকে থাকে।
কবিতার শেষ পঙ্ক্তিতে কবি চিরন্তন সত্য ঘোষণা করে বলেন—
‘এ জগতে বড়ো সত্য,
মানুষ মানুষের জন্য।’
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা কবি হাবিবুর রহমান মুকুলের এই ‘মানুষ’ কবিতায় বিশ্বজুড়ে অসাম্প্রদায়িক মানবতা, সম্প্রীতি ও বিভেদহীন এক সুন্দর সমাজ গড়ার দীপ্ত প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে।