দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী খিয়ারমামুদপুর গ্রামের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক কাদা-পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগের চিত্র সামনে এসেছে। দুর্ঘটনায় আহত ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ মাকে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে, বাঁশের সঙ্গে বেঁধে কাঁধে নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন দুই ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের খিয়ারমামুদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত তপতী রানী (৬০) ওই গ্রামের ধীমান বসাকের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়িতে একটি পুরোনো পেঁপেগাছ ভেঙে গায়ের ওপর পড়লে তপতী রানীর কোমর ও পা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন হলেও গ্রামের একমাত্র কাঁচা সড়কটি অতিরিক্ত কাদা ও পানিতে ডুবে থাকায় কোনো যানবাহন আসতে পারেনি। বাধ্য হয়ে দুই ছেলে গৌতম বসাক ও উত্তম বসাক প্লাস্টিকের চেয়ারে মাকে বসিয়ে দড়ি ও বাঁশ দিয়ে বেঁধে কাঁধে তুলে নেন। আধা কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে ইজিবাইকে করে তাঁকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ছেলে উত্তম বসাক ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, “ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচলের কারণে লাল মাটির রাস্তাটি কাদায় নষ্ট হয়ে গেছে। মাকে এমনভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে আমাদের যে কষ্ট হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য শুকুর আলী জানান, সড়কটির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। সম্প্রতি দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকেও সড়কটি পাকা করার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী সুরুজ্জামান মিয়া জানান, উপজেলার ১০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খিয়ারমামুদপুরের সড়কটির কাজ শুরু করা হবে।