জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাগুরার রাজপথে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বিসহ সব বীর শহীদদের স্মরণে এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সহযোদ্ধা মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ৪ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি ও শহীদের অনাগত সন্তানের জীবনের গভীর হাহাকার উঠে এসেছে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ মাগুরা জেলা শাখার এই সদস্যের বয়ানে।
খোলা চিঠিতে সহযোদ্ধা রাকিব লিখেছেন, “আজ বিজয়ের মুক্ত বাতাসে মানুষের উল্লাস দেখি, কিন্তু আমার চোখ কেবল তোমাদেরই খোঁজে। এই স্বাধীনতার আনন্দ তোমাদের ছাড়া অপূর্ণ। রাব্বি ভাই, ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত বিকেল আমি কীভাবে ভুলব? মাগুরার নবগঙ্গা ব্রিজে যখন চারদিকে বুলেটের শব্দ, তখন তুমি ভয়কে উপেক্ষা করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলে। ঘাতকের বুলেট তোমার বুক বিদীর্ণ করেছে, কিন্তু তোমার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি।”
শহীদ রাব্বির ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি লিখেন, “সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় তোমার অসমাপ্ত জীবনের কথা ভাবলে। সদ্য বিবাহিত তোমার ছোট্ট সংসার, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আর গর্ভে বেড়ে ওঠা অনাগত সন্তান—সব মায়া পেছনে ফেলে দেশের জন্য জীবন দিলে। নিজের সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য তোমার হলো না; তার মুখে ‘বাবা’ ডাক শোনার আগেই তুমি হয়ে গেলে ইতিহাসের অমর নাম। তবুও বিশ্বাস করি, তোমার সন্তান একদিন মাথা উঁচু করে বলবে— ‘আমার বাবা ছিলেন মাগুরার বীর শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বি’।”
চিঠিতে আবু সাঈদ, স্নিগ্ধ হেসে মুগ্ধের আত্মত্যাগসহ জুলাইয়ের সকল শহীদের রক্তকে ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে শহীদদের সর্বোচ্চ জান্নাত কামনা করে আবেগঘন ‘অশ্রুসিক্ত লাল সালাম’ জানান এই সহযোদ্ধা।