দিনাজপুরের বিরামপুরে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (এসজিবিভি) প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে রেফারেল পথনির্দেশনা ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিরামপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ল্যাম্ব হেলথ-ইউকের আর্থিক সহযোগিতায় ল্যাম্ব-এর কমিউনিটি সেফটি শিল্ড (সিএসটু) প্রকল্পের উদ্যোগে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানব পাচার ও এসজিবিভি-সংক্রান্ত ঘটনার কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার এবং একটি সমন্বিত এসওপি চূড়ান্ত করা। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মতিক্রমে এসওপির খসড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা রোধে মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিদেশগমনের কারণে অনেক মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি মানব পাচার প্রতিরোধে কমিউনিটি সেফটি শিল্ড প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা, বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। ল্যাম্ব প্রকল্পের পক্ষে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন প্রোজেক্ট ম্যানেজার বিলাস পৌল তিগ্যা এবং সিএইচডিপি ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, মানব পাচার ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত ও নিরাপদ সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন সেবা দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কর্মশালার শেষে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।