সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিয়ের পর গোপনে ডিভোর্স দিয়েও এক তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতারণা করার অভিযোগে শ্রী অনিক কুমার নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আজ ১৭ জুলাই (শুক্রবার) উপজেলার তামাই মুসিবাড়ী এলাকার একটি বাসা থেকে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলকুচির অনিক কুমার দীর্ঘদিন ধরে রত্না বালা নামের এক তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ও সিঁদুর পরিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর, অনিক কুমার রত্না বালাকে না জানিয়েই গোপনে তাকে ডিভোর্স (তালাক) প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিভোর্স দেওয়ার পরও অনিক কুমার বিষয়টি রত্না বালার কাছে সম্পূর্ণ গোপন রাখেন এবং ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে মেলামেশা ও প্রতারণা চালিয়ে যান।
আজ ১৭ জুলাই তামাই মুসিবাড়ী এলাকার একটি বাসায় তাদের দুজনকে একসাথে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে রত্না বালার আত্মীয়-স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অনিক কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে অনিক বিয়ের দাবি করলেও, পরবর্তীতে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর স্বীকার করেন যে তিনি রত্না বালাকে আগেই ডিভোর্স দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণী কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, “অনিক আমার সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রেখে বিয়ের নাটক করেছে। সে গোপনে আমাকে তালাক দিয়েছে অথচ আজও আমার সাথে মেলামেশা করেছে। আমার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তাকে কে দিয়েছে? সমাজে আমি এখন মুখ দেখাবো কীভাবে? আমি এর বিচার চাই, না হলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।”
ঘটনার পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে বেলকুচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্রী অনিক কুমার ও ভুক্তভোগী তরুণীকে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। এ বিষয়ে বেলকুচি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।