দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার কড়া প্রতিজ্ঞার মধ্যে এবার নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের (জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ করার) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক ও কঠোর তৎপরতার কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত দিয়ে এই পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। এর আগে গতকালও ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তের ১১টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট দিয়ে রেকর্ড ১২৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ, যা বিজিবির সতর্কতায় ব্যর্থ হয়।
হাঁপানিয়া সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি:
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ ‘পান্নাছাড়া’ ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জন সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢোকানোর চেষ্টা করে।
এই খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হাঁপানিয়া বিওপির (Border Outpost) একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় শূন্য লাইনের (Zero Line) অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় কঠোরভাবে আটকে দেয়। বিজিবি জানায়, এই ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম গণমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কোনো অবস্থাতেই কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। জিরো লাইনে থাকা ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতীয় ভূখন্ডে ফেরত পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) আইনি কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।”
সীমান্তে বিজিবির ‘রেড অ্যালার্ট’ ও কঠোর হুঁশিয়ারি:
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের যেসব জেলার সীমান্তের ১১টি পয়েন্ট দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে সেগুলো হলো— চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, খুলনা ও ঝিনাইদহ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির পক্ষ থেকে জারিকৃত এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো অবৈধ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যে কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জওয়ানরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।