রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটিকে নদী থেকে টেনে ঘাটে থাকা কে-টাইপ ফেরি ‘করবী’র ওপর তোলে।
এর আগে আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাম ভেঙে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ফেরিতে ওঠার আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় এবার অলৌকিকভাবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
“আল্লাহ আমাদের বাঁচাতে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন”:
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাসের চালক ঝন্টু আলী (৪৮) জানান, “সকাল সোয়া সাতটার দিকে কুষ্টিয়ার মদনপুর থেকে ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের বাস থেকে নামার অনুরোধ করা হয়। অনেকে নামতে না চাইলে নৌ পুলিশ এসে তাঁদের জোর করে নামিয়ে দেয়। এরপর আমি ও সহকারী ফেরিতে ওঠার জন্য গাড়ি চালু করতেই ব্রেক ফেল করে বাসটি সরাসরি করবী ফেরির র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।”
বাসের যাত্রী এবং বিজিবির সদর দপ্তরের নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষক আবদুস সালাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “বাসটি ঘাটে পৌঁছানোর পর আমি নামতে রাজি হচ্ছিলাম না। পরে নৌ পুলিশ আমাদের জোর করে নামিয়ে দেয়। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমাদের বাঁচাতে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। নয়তো গত ঈদের মতো আজকেও আমাদের সবার প্রাণ চলে যেত।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস একইভাবে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে ২৬ জন যাত্রী নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করেই এবার ঘাট কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে এবং পুলিশ পাঠিয়ে কঠোরভাবে যাত্রী নামানোর ব্যবস্থা করে।
তদন্ত কমিটি গঠন ও মালামাল ফেরত:
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমরা হ্যান্ডমাইকে যাত্রীদের নিচে নামার আহ্বান জানানোর পর পুলিশ আমাদের দারুণ সহযোগিতা করেছে। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও ভেতরে কোনো যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।”
আজ দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, “আজকের এই সচেতনতার কারণেই এতগুলো প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। সবাইকে এভাবেই সচেতন হতে হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ছাড়া বাসে ডুবে যাওয়া যাত্রীদের মালামাল উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।