রাজধানীর মিরপুরে নিজ মেয়ের ফ্ল্যাটের একটি নোংরা ঘরে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূর জাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ওই বৃদ্ধার মেজ ছেলে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩’ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
আজ বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য:
প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের দেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে এবং সেই আইন অনুযায়ীই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
নজিরবিহীন অবহেলা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী:
সম্প্রতি মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। মৃত্যুর অন্তত ৭-৮ দিন পর লাশটি উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফ্ল্যাটের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বৃদ্ধা যে ঘরটিতে থাকতেন সেটি অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর এবং আবর্জনায় ভরা ছিল। এমনকি মরদেহের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাস ও পোকা ধরে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) ঘটনার তদন্তে গণমাধ্যমকর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ কলবেল বাজালেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেননি। সমাজের এত উচ্চ প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের মায়ের এমন নিঃসঙ্গ ও অমানবিক মৃত্যুতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন ওই ভবনের বাসিন্দা ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
কী আছে ২০১৩ সালের ভরণপোষণ আইনে?
নূর জাহান বেগমের এই করুণ মৃত্যুর পর আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ (যা ২০২৩ সালে বিধিমালা আকারে চূড়ান্ত হয়)।
এই আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে বাধ্যতামূলকভাবে পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও তাঁদের সাথে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।
একাধিক সন্তান থাকলে নিজেরা আলোচনা করে পিতা-মাতার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, নিয়মিত খোঁজখবর ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করবেন।
কোনো সন্তান যদি এই আইন লঙ্ঘন করেন বা পিতা-মাতাকে অবহেলা করেন, তবে তিনি অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর এই অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।