চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা লুটের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ফয়েজ আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে একটি মিনি ট্রাকে করে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কে মোটরসাইকেল দিয়ে ট্রাকটির গতিরোধ করেন পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ ও তার সঙ্গীরা। এই ঘটনায় সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল ইসলাম এবং কনস্টেবল মো. গাজী মহসীনের নামও জড়িত রয়েছে।
মিনি ট্রাকের চালক নাছিরের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে হাতকড়া পরিয়ে জিম্মি করার পর ট্রাকটি সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের দুই কথিত সোর্স রবিন ও মোমিনের সহযোগিতায় ট্রাক থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা লুট করা হয়। এমনকি ঘটনার সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলতে ট্রাকের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য নিয়ম অনুযায়ী থানায় জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ বা লুটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কিছু অনিয়ম এবং তাদের পূর্বাপর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রশাসনিক কারণে তাদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।