কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে অন্তত পাইলট প্রকল্প হিসেবে হলেও বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্প এবং তিস্তার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে বর্তমানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত সরকার ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি গ্রুপে বুড়ি তিস্তা পুনঃখননের উদ্যোগ নিলেও নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভুক্তভোগী মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে আইনি জটিলতা ও মামলা প্রত্যাহারসহ এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হবে।
পরিদর্শনকালে ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকার তীব্র নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে নদী রক্ষায় দ্রুত জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের কমিটমেন্ট একটাই—আমরা চাই না কোনো মানুষের একটি বাড়ি, একটি ঘর বা এক ইঞ্চি জমিও নদীতে বিলীন হয়ে যাক।”
পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।