সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কোনো বিশেষ শর্ত নয়, বরং ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক এনগেজমেন্টের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী এবং পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফেরানো কোনো কন্ডিশন নয়, এটি দ্বিপাক্ষিক এনগেজমেন্টের অংশ। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (বন্দি বিনিময় চুক্তি) রয়েছে, সেটার ভিত্তিতেই বিচারিক ও কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতে চলে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মাল্টি-এজেন্সির সমন্বয়ে আইনগতভাবে তাঁদের ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “দেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও যোগাযোগের ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ভারত যেন নিজ ভূখণ্ড কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে না দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে কাজের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”
এদিকে ‘মক্কা চুক্তি’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক। জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক আমন্ত্রণ সাপেক্ষে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে অংশ নেবে বলে তিনি জানান।