সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, অনিয়ম ও সম্ভাব্য বৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সরকারি বিধি মেনে জমির শ্রেণি ও অবস্থান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিক আব্দুল আহাদ ও তাঁর দুই ভাই প্রাথমিক নোটিশ (নং ৪১২) পাওয়ার পর মূল্যায়নের আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে জমির মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেখান।
এই নোটিশ প্রদর্শনের পর স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একই মৌজা ও শ্রেণির অন্য জমির মালিকদের মূল্য অপরিবর্তিত রেখে কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তির জমির মূল্য কোন আইনি প্রক্রিয়ায় বাড়ানো হলো—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এই কথিত বর্ধিত মূল্যের নোটিশকে পুঁজি করে একটি চক্র বা সিন্ডিকেট সাধারণ জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
জনস্বার্থে ও সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরাতে স্থানীয়রা চার দফা দাবি জানিয়েছেন:
১. নোটিশ নং ৪১২ ও কথিত পুনর্মূল্যায়ন নোটিশটির সত্যতা ও বৈধতা যাচাই করা।
২. সংশ্লিষ্ট জমির প্রাথমিক ও পরবর্তী মূল্যায়নের নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
৩. একই মৌজার অন্যান্য জমির মালিকদের প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনা।
৪. সরকারি নথির অপব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সরকারি প্রকল্পে দুই ধরনের নিয়ম চলতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে মূল্য বৃদ্ধি পেলে তার ভিত্তি প্রকাশ করতে হবে, আর নোটিশটি ভুয়া হলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।