তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যিক নন, তিনি একজন বই বিক্রেতা থেকে হয়ে ওঠা বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাসিক। তাঁর নাম কাসেম বিন আবু বাকার।
জন্ম ও পরিচয়:
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই বাংলাদেশি উপন্যাসিকের জন্ম অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। বাবার বড় সন্তান হওয়ায় সংসারের হাল ধরতে হয় অল্প বয়সেই।
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া বোর্ড থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন, ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলেও শেষ করতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে বেছে নেন বই বিক্রির পেশা।আর সেই বই বিক্রি করতে করতেই বই লেখার স্বপ্ন দেখেন।
ফুটন্ত গোলাপ থেকে বেস্টসেলার:
১৯৭৮ সালে তিনি লেখেন তাঁর প্রথম উপন্যাস ফুটন্ত গোলাপ’। কিন্তু কোনো প্রকাশক বইটি ছাপতে রাজি হননি। প্রায় এক দশক ঘুরে ঘুরে অবশেষে বইটি প্রকাশ পায়।
প্রকাশের পরই ঘটে অবিশ্বাস্য ঘটনা — বইটি বাংলাদেশের বেস্টসেলারে পরিণত হয়। গ্রামের সহজ-সরল মানুষের ইসলামকেন্দ্রিক প্রেম-ভালোবাসাই ছিল তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
তাঁর লেখার ভাষা ছিল একেবারে গ্রামীণ, সহজ, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। এই কারণেই মফস্বলের পাঠক তাঁকে মাথায় তুলে নেন।
AFP থেকে বিতর্ক:
তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা AFP তাঁকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করে। এরপর থেকেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয় — তাঁর লেখা আসলে উপন্যাস কিনা, সাহিত্যের মানদণ্ডে এটি পড়ে কিনা? সমালোচকরা সমালোচনা করেছেন, কিন্তু পাঠকরা তাঁকে ছাড়েননি। আজও http://authors.com.bd-তে তাঁর নামে আলাদা পাতা আছে, তাঁর বইয়ের তালিকা আছে।
শেষ কথা:
কাসেম বিন আবু বাকার প্রমাণ করেছেন, লেখক হতে পিএইচডি লাগে না, লাগে মানুষের হৃদয় বোঝার ক্ষমতা। একজন বই বিক্রেতা থেকে দেশের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত লেখক হয়ে ওঠার গল্পটাই তাঁকে ইতিহাসে আলাদা করে রাখবে।
প্রতিবেদক: রবি মল্লিক, খুলনা