খুলনা মানেই কেবল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার, রূপসা-ভৈরব নদের জোয়ার-ভাটা আর ১৯৭১ সালের বধ্যভূমির রক্তস্নাত ইতিহাস নয়। কাগজে-কলমে খুলনা জেলার বয়স ১৪৩ বছর হলেও এর ভূমির ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো।
যেভাবে জন্ম হলো খুলনার:
মুঘল আমলে এই অঞ্চল যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্রিটিশ আমলে সুন্দরবন কেটে আবাদ বাড়লে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ১৮৪২ সালে প্রথম ‘নয়াবাদ’ নামে মহকুমা গঠিত হয়। অবশেষে ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যশোর থেকে আলাদা করে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা নিয়ে গঠিত হলেও ১৯৮৪ সালে তা আলাদা জেলায় রূপ নেয়। নামকরণের পেছনে খুল্লেশ্বরী দেবীর মন্দির, নাবিকদের উচ্চারণ বা খোলা অঞ্চল—এমন নানা মত প্রচলিত রয়েছে।
খুলনার কৃতিসন্তান ও গৌরবময় ইতিহাস:
বিজ্ঞান, সাহিত্য ও বীরত্বের এক অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে খুলনায়। ভারতীয় রসায়নের জনক এবং বেঙ্গল কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্ম পাইকগাছার রাড়ুলীতে। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরের মুক্তিযুদ্ধে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এছাড়া বাংলা নীতিকবিতার জনক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, বিদ্রোহী কবি ও সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর, নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’-এর রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিমের জন্মও এই জনপদে।
কালান্তর নিউজের প্রশ্ন ও মূল্যায়ন:
এিসির রাঢ়ুলীর পৈতৃক বাড়িটির বর্তমান বেহাল দশা, গল্লামারি বধ্যভূমিতে ময়লার ভাগাড় কিংবা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বা বিজ্ঞান জাদুঘর না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একটি সভ্যতার মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার কৃতিসন্তানদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। খুলনা তার বীর সন্তানদের জন্ম দিলেও তাদের স্মৃতি রক্ষা ও সঠিক মূল্যায়নে কতটুকু সফল হয়েছে—আজ সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।