ইয়াবা পাচারে জড়িত প্রকৃত প্রভাবশালী মাদক কারবারি ও বাহকদের নতুন করে তালিকাভুক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে টেকনাফে অপহরণ প্রতিরোধে আরও দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউসে আয়োজিত মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক চোরাকারবারি, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং বাহকদের নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করে নতুন তালিকা প্রস্তুত করবে কক্সবাজার ও সীমান্ত এলাকার মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স কমিটি। প্রস্তুতকৃত তালিকার ভিত্তিতেই জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চালানো হবে।
মাদকের বিস্তার রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, সীমান্ত ও মূল পাচারের রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প বসানো হবে এবং সমুদ্রপথে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে মাদক ব্যবসা রুখতে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর এটিই দেশের প্রথম সমন্বয় সভা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগে মাদক নির্মূলে গতি আনা হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নাফ নদীতে মাছ ধরা পুনারম্ভ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের প্রকৃত জেলে এবং মাছ ধরার নৌযানকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে জলযান চলাচলের গতিবিধি নজরদারিতে ১১টি টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় অপহরণ আতঙ্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিকে সরকার চরম গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় অপহরণ বন্ধে টেকনাফ এলাকায় আরও দুটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
উক্ত সভায় সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।