ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত মুখগুলোর একজন নেহা বোড়া। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) গবেষক ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০২৬ সালে দিল্লির জন্তর-মন্তরে ২৩ দিনের অনশন এবং পরে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের ঘটনায় তিনি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন।
নেহা বোড়ার বাড়ি উত্তরাখণ্ডের খাতিমায়। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ড. বি.আর. আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় দিল্লি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে JNU-এর স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড এস্থেটিক্সে থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজে পিএইচডি করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন তিনি।
AISA-এর জাতীয় সভাপতি হিসেবে নেহা শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষায় অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিতে সরব হয়েছেন। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি দিল্লির জন্তর-মন্তরের আন্দোলনে তিনি আরও পরিচিতি পান। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে সেখানে দীর্ঘদিনের আন্দোলন গড়ে ওঠে। নেহা ও আরও দুই AISA কর্মী ২৩ দিন অনশনে ছিলেন।
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP নামের একটি যুবভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন। পরীক্ষার অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতিবাদে আন্দোলনটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।
২৩ দিনের অনশনের পর নেহা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার সঙ্গে অনশনে ছিলেন মানিশ কুমার ও আমিন আমিতোজ। একই সময়ে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও জন্তর-মন্তরে অনশনে অংশ নেন।
আন্দোলনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক পরিণতি আসে ২৫ জুলাই। ওই দিন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তার পদত্যাগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রহ্লাদ জোশিকে।
এরপরও থেমে থাকেননি নেহা। আগস্টে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলমান ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। সেখানে বিধানসভা অভিমুখে মিছিলের সময় তার দিকে এক ব্যক্তি কালি ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে। ঘটনার পর নেহা বলেন, এ ধরনের হামলা ছাত্রদের আন্দোলন থামাতে পারবে না।
অক্টোবরের শুরুতেও দিল্লির জন্তর-মন্তরে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন নেহা। ৩ অক্টোবর পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টার সময় তাকে আটক করা হয় বলে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
নেহা বোড়া শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, বেসরকারিকরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে থাকেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার পরিবারের রাজনৈতিক মতের সঙ্গে তার নিজের মতের পার্থক্য রয়েছে।
জন্তর-মন্তরের ২৩ দিনের অনশন, রাঁচির ছাত্র আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক দিল্লির বিক্ষোভে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নেহা বোড়া এখন ভারতের ছাত্র রাজনীতির আলোচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন।