ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন ও ভূমিতে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জন মানুষ। গত বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক থান সুয়ান্তি জানান, প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গত বুধবার নতুন করে ৪ হাজার ৫২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে রিয়াউ, জাম্বি, দক্ষিণ সুমাত্রা, পশ্চিম কালিমান্তান, দক্ষিণ কালিমান্তান ও মধ্য কালিমান্তান—এই ছয়টি প্রদেশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধোঁয়ার সাথে থাকা পিএম২.৫, কার্বন মনোক্সাইড এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
এদিকে বন ও ভূমিতে বারবার আগুন লাগার এই ঘটনায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে অনুমতি নিয়ে কাজ করা কিছু কোম্পানি তিন থেকে ১২ বার পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, এমনকি কোনো কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ১৯ বার আইন ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। প্রমাণ মিললে এসব বিদেশি কোম্পানির ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করে সেই জমি তরুণ ইন্দোনেশীয়দের ব্যবহারের অধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
দাবানল পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী সামারিন্দায় হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তারা এই সংকটকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় এবার অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।