পরিবারের একমাত্র উপার্জনের সম্বল ছিনতাই হয়ে যাওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে দেওয়ায় আনন্দের বন্যায় ভাসছে নওগাঁর মহাদেবপুরের পঙ্গু রামকৃষ্ণ সরকারের পরিবার। পুলিশি তৎপরতায় হারানো সম্বল ফেরত পেয়ে নওগাঁর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাতে পরিবারসহ সরাসরি এসপি কার্যালয়ে ছুটে আসেন তারা। পরিবারের এমন অমলিন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ হয়েছেন পুলিশ সুপার।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা রামকৃষ্ণ সরকার বহু বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে শরীরের ক্যাথেটার পরা অবস্থাতেই দিন কাটান তিনি। সংসারের হাল ধরতে তার ছেলে রকি নওগাঁ শহরে একটি অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। এই উপার্জনের টাকাতেই চলছিল রামকৃষ্ণের চিকিৎসা খরচ ও পরিবারের খোরাক।
তবে চলতি বছরের গত ১০ জুন সকালে দুষ্কৃতিকারীরা চালক রকিকে ডাবের পানির সঙ্গে বিষ খাইয়ে তাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এতে পুরো পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। বিষয়টি গত ১ জুন (জুলাই) ভুক্তভোগী রামকৃষ্ণ এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে জানালে তিনি দ্রুত মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দেন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন।
পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ডেটা বিশ্লেষণ করে বগুড়া, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় অভিযান চালিয়ে ‘অজ্ঞান পার্টি’র সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহে আদালতের নির্দেশে রিকশাটি রামকৃষ্ণের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) অটোরিকশাটি ফেরত পেয়ে ফুলেল তোড়া নিয়ে রামকৃষ্ণ সরকার, তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও সন্তান রকি এসপি অফিসে উপস্থিত হন। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সামর্থ্য না থাকায় গাড়িতেই বসে ছিলেন অসুস্থ রামকৃষ্ণ। খবর পেয়ে খোদ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নিচতলায় নেমে আসেন এবং রামকৃষ্ণের পরিবারের দেওয়া ভালোবাসার ফুল গ্রহণ করেন। এ সময় রামকৃষ্ণের বৃদ্ধা মা হাত তুলে জেলা পুলিশ সুপারের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন।
দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে এ ঘটনাকে এক বিশেষ প্রাপ্তি উল্লেখ করে এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “একটি পঙ্গু ও অসহায় পরিবারের এই ভালোবাসায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সিক্ত হলো। মানুষের এমন আস্থা ও ভালোবাসায় আমাদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল।”