খুলনার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের জীবন ও কর্ম কেবল একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়—বরং তাঁরা একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলহাজ্ব এস এম এ রব তাঁদেরই একজন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখা এই নেতা মেহনতী মানুষের অধিকার আদায় এবং জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে অর্জন করেছিলেন সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এস এম এ রব। পরবর্তীতে দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি যুক্ত হন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে দ্রুতই তিনি খুলনার রাজনীতিতে একজন প্রভাগশালী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর এ জনপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানিয়েই আওয়ামী লীগ তাঁকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল।
তবে ২০০০ সালের ১১ আগস্ট এক করুণ ও বেদনাবিধুর ঘটনার সাক্ষী হয় খুলনা। ওই দিন পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় আততায়ীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
রব হত্যার দুই যুগ অতিক্রান্ত হলেও তাঁর হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়া নিয়ে প্রতিনিয়তই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজপথের সহযোদ্ধা ও সুশীল সমাজ। প্রতি বছর তাঁর শাহাদাৎবার্ষিকীতে পরিবার, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সামাজিক অঙ্গন থেকে স্মরণসভা, কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে সচেতন মহলের দাবি—কেবল বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমিত না রেখে শহীদ এস এম এ রবের রাজনৈতিক দর্শন, জীবনের অজানা অধ্যায় এবং মুক্তিযুদ্ধের অবদান নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জীবনী, স্মারকগ্রন্থ কিংবা তথ্যচিত্র নির্মাণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।