মানুষের জীবনে এমন কিছু কষ্ট আসে, যা কাউকে বলে বোঝানো যায় না। কিছু ব্যথা থাকে, যার কোনো ভাষা নেই; আর কিছু রাত থাকে, যা ঘড়ির কাঁটায় কয়েক ঘণ্টা হলেও ভুক্তভোগী মানুষের কাছে মনে হয় অনন্তকাল।
কষ্টের সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একজন অন্তরঙ্গ মানুষ খোঁজে, যার কাছে মন খুলে বলা যায়। একজন পরম বন্ধু হয়তো সহানুভূতি জানাবেন, সান্ত্বনা দেবেন, কিন্তু কষ্টের আসল কারণ বা মূল ব্যথা দূর করে দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই।
তবে প্রশ্ন ওঠে—তাহলে এই কঠিন মুহূর্তে কে অন্তরে শান্তি দিতে পারে? কে মুছতে পারে নিঃশব্দ কান্না? উত্তর একটাই—আমাদের শেষ আশ্রয় মহান আল্লাহ।
রাত যত গভীর হয়, চারপাশের ব্যস্ততা থেমে যায়, আপন মানুষেরাও ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না। তিনি ঘুমান না, তিনি ক্লান্ত হন না। তাঁর কাছে পৌঁছাতে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হয় না। জীবনের কঠিন মুহূর্তে মানুষ হয়তো শুধু কষ্টটুকুই দেখে, কিন্তু আল্লাহ সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই আমাদের বড় কোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।
পাশাপাশি, সুস্থতা ও অবসর মানুষের জীবনের দুটি বিরাট নিয়ামত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা হারানোর পর এর গুরুত্ব বোঝে। মহানবী (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, এই দুই নিয়ামতের বিষয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাই অসুস্থ হওয়ার আগেই সুস্থতাকে এবং ব্যস্ততা আসার আগেই অবসরকে কাজে লাগানো উচিত।
মানুষ হয়তো সাময়িক চোখের পানি মুছে দেবে, কিন্তু অন্তরের গভীরতম ক্ষত সারানোর ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তাই নিঃসঙ্গ রাতে নিরাশ না হয়ে আকাশে তাকালেই অনুভব করা যায়—”হে আমার রব, তুমি তো আছো; তুমিই আমার জন্য যথেষ্ট।”