খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলতি আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই হাসপাতালে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ৮ থেকে ১৪ আগস্ট—মাত্র সাত দিনে জেলায় ৫৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা তার আগের সপ্তাহের (২২৮ জন) তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি।
সংক্রমণের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্ধারিত ১৫টি ডেঙ্গু শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে। রোগীদের বাধ্য হয়ে স্থান দিতে হচ্ছে অন্যান্য ওয়ার্ড ও বারান্দায়। ২০ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের সাত দিনে খুলনা মেডিকেলেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরীর ৪টি ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।
কী কারণে এই সংকট?
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল মশকনিধনের ওপর নির্ভর করে না। এর সাথে নগর ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সমন্বয়হীনতা: কেসিসি, স্বাস্থ্য বিভাগ ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন: কেসিসি ক্রাশ প্রোগ্রাম, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আগামী তিন মাসের ওষুধ মজুতের দাবি করলেও বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
হাসপাতালের প্রস্তুতি: জরুরি শয্যাসংকট, পর্যাপ্ত স্যালাইন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।
নগরবাসীর দাবি:
রাজনৈতিক ব্লেম-গেম নয়, খুলনাবাসী এখন দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখতে চায়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম, হাসপাতালে জরুরি শয্যা বৃদ্ধি, দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর সমন্বিত মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী।