২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের জন্ম দেয়। এই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাইমুম সিরাজ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইমুম সিরাজ মনে করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলন নয়; এটি ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিক পরিণতি।
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে সায়েন্সল্যাব, গাবতলী, মিরপুর-১০, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ১৬ জুলাইয়ের পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে গেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে আন্দোলন চলাকালে তিনি গুরুতর আহত হন।
সরকার পতনের পরও থেমে থাকেননি এই জুলাই যোদ্ধা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও “আমরা বিএনপি পরিবার”-এর সহযোগিতায় সারাদেশে চিকিৎসাবঞ্চিত প্রায় ছয় হাজার আহত আন্দোলনকারীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি “আমরা জুলাই যোদ্ধা” কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর-সংযুক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কাজী সাইমুম সিরাজ বলেন, “৫ আগস্টের পর আমার জীবনটাই দেশের মানুষের কল্যাণ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের অধিকার আদায়ের জন্য উৎসর্গ করেছি।”