সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং তার দাবি করা দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমপি উক্ত তরুণীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করলেও কাবিননামার তারিখ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও কাজীর বিস্ফোরক বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি প্রকাশ পেয়েছে।
ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল দাবি করেন, গত ১৭ জুন মরিয়ম খাতুন নামের ওই তরুণীর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে কাবিননামা প্রস্তুতকারী কাজী মাওলানা বি.এ.এম. বাকী বিল্লাহ জানান, বিয়ে কোথায় বা কীভাবে হয়েছে—সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। গত সোমবার গভীর রাতে তাঁকে ফোন করে ঢাকায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে নিবন্ধনের চাপ দেওয়া হয়। ফোনেই দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও ১৭ জুনের পেছনের তারিখ ব্যবহার করে পরবর্তীতে কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কাজী একপর্যায়ে “আমাদের কেন বিপদে ফেলেছেন” বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটায় গত ২২ জুন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নিজের স্বাক্ষর ও সুপারিশ রয়েছে, যেখানে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা ছিল। ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকলে ২২ জুনের বায়োডাটায় তাঁকে কেন অবিবাহিত দেখানো হলো—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এমপির প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুর এই ঘটনাকে অপপ্রচার বলে দাবি করলেও, একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসায় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ।