ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে একটি অনুসন্ধানী ভিডিও প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ইলিয়াস। সম্প্রতি প্রকাশিত এই ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
ভিডিও প্রতিবেদনে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক ইলিয়াস দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী নুর পদে আসার পর গত ছয় মাসে বিভিন্ন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন। একই সাথে মানবপাচার, মাদক ব্যবসা ও “মামলা বাণিজ্য”-এর মতো গুরুতর অভিযোগের কথা ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন কেন্দ্রিক একটি বিশেষ সম্পর্কের কথাও দাবি করেন ওই সাংবাদিক।
ভিডিওতে বলা হয়, দুর্নীতি নিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর যখন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চাপ রয়েছে, তখন একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বা তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একই সাথে কোনো আদালত বা সরকারি তদন্ত সংস্থা এখন পর্যন্ত এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন, অন্যদিকে অনেকেই প্রমাণ ছাড়া কেবল একতরফা অনুসন্ধানী ভিডিওর ভিত্তিতে চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আইনি ও সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।