নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত থাকার পরও এক রোগীর স্বজনকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘটনার মুখোমুখি হন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে স্যালাইন কিনে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনের হাতে তুলে দেন তিনি।
এদিন সকালে নওগাঁ সদর আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুকে সঙ্গে নিয়ে জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করেন।
সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেওয়ার একপর্যায়ে এক রোগীর স্বজন সরাসরি অভিযোগ করেন—হাসপাতালে সরকারি পর্যাপ্ত ওষুধপত্র ও প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুত থাকলেও দায়িত্বে থাকা স্টাফদের নির্দেশে তাঁদের বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে স্যালাইন কিনতে হয়েছে।
অভিযোগটি হাতেনাতে পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক নিজ পকেট থেকে অর্থ দিয়ে বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় স্যালাইন কিনে এনে রোগীর স্বজনের হাতে সোপর্দ করেন।
পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সরকারি চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কোনো রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ বা স্যালাইন কিনতে বাধ্য করা যাবে না। সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে জড়িত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন দ্রুত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই ধরনের কঠোর তদারকি ও তড়িৎ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধ হবে এবং অহেতুক বাইরের ওষুধ কিনতে বাধ্য করার প্রবণতা কমবে।