বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আরও একবার পরম মর্যাদায় উঁচুতে ওড়ালেন বাংলাদেশের কৃতি সন্তান হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত সম্মানজনক ‘৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’য় ১৫ পারা বিভাগে ১ম স্থান অর্জন করে বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই আন্তর্জাতিক অর্জনে পুরো দেশ ভাসছে গর্ব ও আনন্দের জোয়ারে।
তবে, এই আকাশচুম্বী আনন্দের পেছনেই আড়ালে শুরু হয়েছে এক তপ্ত আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক। বিতর্কটির মূল বিষয়—একটি বিশ্বজয়ী রত্নকে গড়ে তোলার আসল কৃতিত্ব বা ‘ক্রেডিট’ আসলে কার?
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাফেজ জাকারিয়া দীর্ঘ ৫টি বছর তিল তিল করে নিজের হিফজের সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছেন ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ‘মারকাযু ফয়জিল কুরআন ঢাকা’-তে। পরম শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম সাহেবের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও প্রতিষ্ঠানটির উস্তাদদের অপরিসীম মেহনতেই তিনি নিজেকে তৈরি করেন। মারকাযু ফয়জিল কুরআনের ব্যানারেই তিনি ইতোপূর্বে দেশীয় বড় প্ল্যাটফর্ম ‘পবিত্র কুরআনের আলো ২০২২’-এ ৩য় এবং ‘কুরআনের নুর ২০২৩’-এ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি হাফেজ আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা পরিচালিত ‘রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’-তে ভর্তি হন এবং সাম্প্রতিক সৌদি আরবের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের ব্যানার থেকেই অংশ নিয়ে ১ম স্থান ছিনিয়ে আনেন।
জাকারিয়ার এই অভূতপূর্ব বিশ্বজয়ের পর দুই প্রতিষ্ঠানের নাম ও ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ সচেতন আলেমদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সুশীল সমাজ ও দ্বীনি অঙ্গনের সচেতন অংশ প্রশ্ন তুলছেন—বছরের পর বছর মেহনত করে যে প্রতিষ্ঠান ও উস্তাদগণ একজন শিক্ষার্থীর মূল ভিত্তি গড়ে দিলেন, সাফল্যের চূড়ান্ত মঞ্চে গিয়ে যদি অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম বড় হয়ে ওঠে, তবে তা দ্বীনি অঙ্গনের সুস্থ পরিবেশ ও সৌহার্দ্যকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য সঠিক গ্রুমিং ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়ার ভূমিকাও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন একাংশের সমর্থকরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া ও সচেতন দ্বীনি সমাজে এখন জোর দাবি উঠছে—
প্রচার কিংবা ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনের চেয়ে কোরআনের মর্যাদা ও হিফজ অঙ্গনের পারস্পরিক সৌহার্দ্য যেন সর্বাগ্রে প্রাধান্য পায়।
যে প্রতিষ্ঠান ও উস্তাদরা দিন-রাত এক করে একজন শিক্ষার্থীর ভিত্তিমূল প্রতিষ্ঠা করলেন, তারা যেন তাদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত না হন।
অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে হিফজ অঙ্গনে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক চর্চা গড়ে উঠুক।
বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, বিশ্বমঞ্চে বিশ্বজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, তাঁর মেহনতী উস্তাদগণ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের এই কোরআনি বিশ্বজয়ের ধারা আগামীতেও অক্ষুণ্ণ থাকুক।