সকাল থেকে গভীর রাত—দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে থাকছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কোথাও স্কুল ছুটির গাড়ির দীর্ঘ সারি, কোথাও হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে অবস্থান নেওয়া রোগী ও স্বজনদের যান, আবার কোথাও শপিংমল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের রাখা গাড়িতে প্রতিদিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে প্রধান প্রধান পথগুলো।
অভিযোগ উঠেছে, বহুতল ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোর নিজস্ব সীমানার ভেতরের পার্কিং চাপ সামলানোর দায় জনসাধারণের ওপর এসে পড়ায় এর চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নগরবাসীকে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নগরের অনেক প্রতিষ্ঠানই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়া তাদের বাণিজ্যিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদিত নকশায় পার্কিং দেখানোর পর বাস্তবে তা দোকান, গোডাউন বা অন্যান্য কাজে ব্যবহারেরও অগণিত প্রমাণ মিলছে। আবার কোথাও পার্কিং সুবিধা থাকলেও তা কেবল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতনদের নিজস্ব গাড়ি রাখার কাজে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষের গাড়ি বাধ্য হয়ে সড়কেই পার্ক করা হচ্ছে।
নগরের সরসন রোডের চিটাগং গ্রামার স্কুল, জামালখানের চিটাগং আইডিয়াল হাই স্কুল এবং দামপাড়ার বাওয়া স্কুল ঘিরে প্রতিদিন শত শত ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের আনা-নেওয়ার গাড়ি ছুটির অনেক আগেই সড়কের ওপর দুই-তিন সারিতে দাঁড়িয়ে থাকে, যা আশপাশের পুরো যোগাযোগব্যবস্থাকে অচল করে দেয়।
একই অবস্থা দেখা গেছে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলাকাগুলোতে। পাঁচলাইশ, প্রবর্তক মোড়, গোলপাহাড় ও চট্টেশ্বরী এলাকার পার্কভিউ, ইবনে সিনা, এপিক, ল্যাবএইড, ম্যাক্স এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে সড়কে নিয়মিতই তৈরি হচ্ছে যানজট। এমনকি চমেক হাসপাতালের সামনে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকছে। অন্যদিকে, সন্ধ্যার পর জিইসি, আগ্রাবাদ ও বহদ্দারহাট এলাকার প্রধান প্রধান শপিংমল ও বিপণিবিতানের ক্রেতাদের গাড়ির দখলে চলে যাচ্ছে মূল সড়ক।
এ ছাড়া বহদ্দারহাট, অলংকার, এ কে খান, নতুন ব্রিজ ও বন্দরমুখী সড়কগুলোতে পার্কিং টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও দূরপাল্লার বাস, ভারী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সড়কের অংশ দখল করে রাখায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ইপিজেড ও বন্দরগামী লাখ লাখ মানুষ।
নগরের যোগাযোগ সংকট ও ভবন অনিয়ম প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব সমস্যার বিরুদ্ধে সমন্বিত তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নকশাবহির্ভূত অনিয়ম পাওয়া গেলেই নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।
অন্যদিকে, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, “অবৈধ পার্কিং ও নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের পুরো দায় শুধু ট্রাফিক পুলিশের নয়; সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়হীনতা যানজট বাড়াচ্ছে। সিডিএকে নকশাবহির্ভূত ব্যবহার বন্ধে আরও কঠোর হতে হবে।” যানজট কমাতে ছোট যানবাহন কমিয়ে রুটভিত্তিক বড় বাসের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।