বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি, সুরকার ও কালজয়ী গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে রাজশাহীতে জমকালো উন্মুক্ত ব্যান্ড কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী ও স্থানীয় ব্যান্ড দলগুলোর পরিবেশনায় রক গান ও রূপালী গিটারের সুরে মেতে ওঠে শ্রোতা-দর্শকরা।
ভক্তদের কাছে যিনি পরম ভালোবাসায় ‘এবি’ (AB) নামে পরিচিত ছিলেন, সেই আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ছিল রবিন। পরিবারে সংগীতের বাঁধাধরা আবহ না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। শিক্ষাজীবনে চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে হাতেখড়ি হওয়া রবিন ১৯৭৩ সালে বাবার কাছ থেকে লাভ করেন জীবনের প্রথম অ্যাকোস্টিক গিটার। সেই শুরু থেকে আজ অবধি তিনি লক্ষ কোটি বাঙালির হৃদয়ে গিটারের জাদুকর হয়ে আছেন।
১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। পরবর্তীতে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘সোলস’-এর লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত থেকে সংগীতপিপাসুদের মাতিয়ে রাখেন। এর পর ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন তার স্বপ্নের ব্যান্ড ‘এলআরবি’ (LRB), যার মাধ্যমে বাংলা ব্যান্ড সংগীতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়।
সংগীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে’, ‘হাসতে দেখ, গাইতে দেখ’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘রাত্রির ট্রেন’ ও ‘ফেরারি মন’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান শিল্পী।
রাজশাহীর উন্মুক্ত কনসার্টে উপস্থিত সংগীতপ্রেমীরা জানান, বাংলা রক সংগীতে আইয়ুব বাচ্চুর অবদান চিরভাস্বর। তার অসাধারণ গিটার বাজানোর কৌশল, স্বতন্ত্র গায়কী ও হৃদয়স্পর্শী সুর আজও নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।