নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরানো দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ও আলুর লাগামহীন দাম নিয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। এমন বাস্তবতায় চাঁদাবাজি ও অনানুষ্ঠানিক আদায় বন্ধ করতে পারলে বাজারে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমন দাবি উঠলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল চাঁদাবাজি বন্ধ করে রাতারাতি সব পণ্যের দাম ৫০ শতাংশ কমানো বাস্তবসম্মত নয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে সিপিডির গবেষণাভিত্তিক আলোচনা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বক্তব্য অনুযায়ী, সরবরাহব্যবস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় কমানো জরুরি। সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হলেও খুচরায় তা প্রায় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সায় পৌঁছায়। এছাড়া মসুর ডালে ৭৮%, পেঁয়াজে ৮৭%, আলুতে ৫০% এবং কাঁচামরিচে ১১৬% পর্যন্ত দামের ব্যবধান তৈরি হয় উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারদর উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হলে চাঁদাবাজির পাশাপাশি চারটি প্রধান সংস্কার প্রয়োজন:
পরিবহন ব্যয় হ্রাস: বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬%, যা বৈশ্বিক গড়ের (১০%) চেয়ে অনেক বেশি।
মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ: উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমাতে হবে।
মজুতদারি ও কারসাজি রোধ: বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
সরবরাহশৃঙ্খলে স্বচ্ছতা: সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট দূর করতে হবে।
সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যানে জুলাই ২০২৬-এ সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮.৩২% এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.১৬%-এ নেমে এলেও বাজারে বাস্তব স্বস্তি ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য চাঁদাবাজি বন্ধ ও বাজার সংস্কার এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।