অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে অবস্থিত বড়ভিটা আফজালুল উলুম বহুমুখী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে জাল কাগজপত্র, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। সম্প্রতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত একটি সরকারি চিঠি ও সংযুক্ত তালিকা সামনে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক নম্বর উমাশিঅ/কিশোর/নীল/১৯৬/২০২৪-এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে নতুন এমপিও ফাইলসংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়। চিঠিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. টি. এম. নুরুল আমিন শাহের স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠির বিষয়বস্তুতে জাল ও ভুয়া নতুন এমপিও ফাইলসংক্রান্ত তথ্য প্রেরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকায় বিভিন্ন অসংগতির বিষয় তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত সংযুক্ত তালিকায় বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার পাঁচজন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম, পদবি, যোগদানের তারিখ এবং নিয়োগসংক্রান্ত মন্তব্য উল্লেখ রয়েছে।
১. মোঃ নুরুন্নবী
২. মোছাঃ লায়লা আক্তার লূনা
৩. মোঃ মনিরুল ইসলাম
৪. শবনম শারমিন
৫. মোঃ মোশারেউল আলম
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি নিয়োগে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকাভুক্ত মোঃ নুরুন্নবী অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের শ্যালকের ছেলে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দাখিল করা শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা, অনলাইন এমপিও আবেদন ও নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে অসংগতির বিষয় উঠে আসায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং এমপিওসংক্রান্ত মূল নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বড়ভিটা আফজালুল উলুম বহুমুখী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।