সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দল ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূলধারায় এনে দলের নীতি-নির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির জোরালো প্রক্রিয়া চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকদের।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের কাউন্সিলে ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির পদ রাখা হলেও বর্তমানে একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রয়াণ এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সাংগঠনিক পদে না থাকায় কয়েকটি পদ খালি হয়। এ ছাড়া ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ প্রবীণ একাধিক নেতা শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রের তথ্যমতে, স্থায়ী কমিটির এই শূন্য পদগুলোতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যে ৫ জন নেতা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন—
১. নুরুল ইসলাম মনি (ভাইস চেয়ারম্যান ও চিফ হুইপ)
২. শামসুজ্জামান দুদু (ভাইস চেয়ারম্যান)
৩. অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)
৪. ইসমাইল জবিউল্লাহ (চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা)
৫. অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা)
এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় উঠে আসছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝেও বিএনপির সাংগঠনিক কাজ থেমে থাকেনি এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষায় পরীক্ষিত ও রাজপথের তরুণ নেতাদের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে জায়গা দেওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা দলকে আরও গতিশীল করবে।