দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু ক্ষমতার ছয় মাস পূর্তিতে এসে ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক শক্তির সামনে এক বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—দল কি সরকারকে দিকনির্দেশনা দেবে, নাকি ধীরে ধীরে সরকারের ছায়াতেই হারিয়ে যাবে?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ এখন মাঠের রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে এমপি-মন্ত্রী ও সচিবালয়কেন্দ্রিক দৌড়ঝাঁপেই বেশি ব্যস্ত। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার ক্ষমতার কেন্দ্রকে ঘিরে তাদের এই রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ফলে বিএনপির মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সক্রিয়তা অনেকটাই কমে এসেছে।
দলের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি স্বীকার করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয় যে দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুত ঢেলে সাজাতে না পারলেও খুব শিগগিরই জাতীয় সম্মেলন ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, বিএনপি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—সরকারের কাজে দলের সহায়তা লাগবে, কিন্তু সরকারের ভেতরে দলকে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে না।
সরকারের প্রথম ছয় মাসে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে প্রত্যাশিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে মন্থরগতি, ক্রিকেট বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসকদের পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ/পুনর্বাসন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। সাড়ে ১৫ বছর ধরে প্রতিপক্ষের ‘দলীয়করণের’ বিরুদ্ধে লড়াই করা বিএনপির জন্য যা এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ।
একই সাথে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একদিকে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়া দলকে নতুন করে মাঠে সক্রিয় করাই এখন তারেক সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।