সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ২ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. আসাব উদ্দিন বাবু নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক চারজনের নাম উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— কদমতলী গ্রামের মৃত ফকির চানের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. জহুরুল প্রামাণিক, মতিন প্রামাণিকের ছেলে মো. আল আমিন এবং একই গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম। তারা সম্পর্কে ভুক্তভোগীর চাচা ও চাচাতো ভাই।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আদি বিবরণ:
আহত আসাব উদ্দিন বাবু জানান, ঘটনার কিছুদিন পূর্বে এক আসামি আনোয়ার হোসেনের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. রুমা বেগমের শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর রুমা বেগমের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে মানহানি করেন আনোয়ার। পরবর্তীতে রুমা বেগম বাদী হয়ে আনোয়ারকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় চাচাতো ভাই হওয়ায় আসাব উদ্দিন বাবুকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলাটি মীমাংসা করার জন্য আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাবুর নিকট মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাবুকে বিভিন্ন সময়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
বর্বরোচিত হামলা:
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসাব উদ্দিন বাবু নিজের জমিতে ধান কাটার জন্য যান। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে হাজির হন। জমিতে দাঁড়িয়ে চাচা সাইদুল ইসলামের নির্দেশে আনোয়ার হোসেন ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাবুর মাথার পেছনে সজোরে কোপ মারেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে জহুরুল ও আল আমিন হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে বাবুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাড়ভাঙ্গা জখম করেন। বাবুর চিৎকার শুনে স্থানীয় গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা: গ্রামবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় বাবুকে উদ্ধার করে প্রথমে বেলকুচি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ:
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসাব উদ্দিন বাবু বেলকুচি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর জানান, কদমতলী গ্রামে মারপিট ও জখমের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।